আল্লাহর কুদরাত দেখুন, যে দিন কাবা শরীফে আগুন লেগেছিল, সে দিন ইয়াজিদ এক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে দামেস্কে মারা যায়। ইয়াজিদের সৈন্য বাহিনীরা ওর মৃত্যুর খবর শুনে হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ বিন জোবাইর ও তাঁর সাথীদের মধ্যে নূতন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং তাঁরা বীরদর্পে ইয়াজিদী বাহিনীর উপর আক্রমণ করে বসেন এবং অনেক ইয়াজিদী সেনাকে খতম করেন। অবশিষ্ট সৈন্যরা যে যে দিকে পারলাে পালিয়ে গেল এবং মক্কাবাসী ওদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেল। ইয়াজিদী বাহিনী চলে যাওয়ার পর মক্কা মদীনার অধিবাসীগণ হযরত আবদুল্লাহ বিন জোবাইরের হাতে বায়াত করলেন।
ঐদিকে দামেস্কে ইয়াজিদের মৃত্যুর পর তার ছেলে মারিয়া আসগরের হাতে লােকেরা বায়াত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল। এ ছেলে খুবই নরম মেজাজ ও পরহেজগার ছিল। সে লােকদের ইচ্ছের প্রত্যুত্তরে বলল, আমি রাজত্ব পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। আমার বাপও অনুপযুক্ত ছিল। সত্যিকার খলিফা হওয়ার হকদার ছিল হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)। কিন্তু আমার পিতা, হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর হক আত্মসাত করেছে এবং জুলুম করে তাঁকে (রাঃ) হত্যা করেছে। আমি আমার আব্বার পরিণতি সম্পর্কে খুবই উদ্বিগ্ন। তাই আপনারা আমার হাতে বাইয়াত করার ইচ্ছা পোষণ করে আমি তাতে রাজি নই। আপনারা হযরত ইমাম জয়নুল আবেদীন (রাঃ) এর হাতে বায়াত করুন। এরপর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং চল্লিশ দিন পর ইন্তিকাল করে। আল্লাহ তাআলা নেককারের ঘরে বদকার, বদকারের ঘরে নেককার সৃষ্টি করেন।
যখন ইয়াজিদের ছেলে মারা গেল, তখন দামেস্ক ও সিরিয়ার অবস্থা এমন শোচনীয় হয়ে পড়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত মারােয়ান’ নিজেকে আমীর ঘােষণা করল। ঐ দিকে কুফার গভর্ণর ইবনে জিয়াদও কুফা থেকে পালিয়ে ওর সাথে হাত মিলালাে। লােকেরা বাধ্য হয়ে ওকে আমীর মেনে নিল এবং ইবনে জিয়াদ ওর প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেল । আর ঐ দিকে মক্কা-মদীনায় আবদুল্লাহ বিন জোবাইরের হুকুমত কায়েম রইল। তবে সমগ্র আরব দেশে একটা মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে গেল।
পূর্ববর্তী পেইজ | পরবর্তী পেইজ |
(৩৫) ইয়াজিদ বাহিনীর মক্কা-মদীনা আক্রমণ | (৩৭) ইয়াজিদ বাহিনীর যমদূত মুখতার সাক্ফীর আবির্ভাব |
সূচীপত্র | এরকম আরো পেইজ |