হঠাৎ এমন একটি লােমহর্ষক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এবং ইয়াজিদের জুলুম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চারিদিক থেকে বিদ্রোহের দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলাে। বিশেষ করে মক্কা-মদীনার অধিবাসীগণ ইয়াজিদের প্রতি খুবই ক্ষ্যাপা ছিল এবং ইয়াজিদের বিরুদ্ধে সমালােচনামুখর ছিল। এই খবর ইয়াজিদের কানে পৌছলে সে কয়েকজন প্রতিনিধিকে মক্কা-মদীনায় পাঠালাে এবং ওদেরকে বলে, মক্কা-মদীনাবাসীকে গিয়ে বুঝাও, যেন আমার বিরুদ্ধে সমালােচনা না করে, আর আমার প্রতি যেন অসন্তুষ্টি প্রকাশ না করে। মদীনাবাসীরা বললেন, সে জালিম, ফাসিক, অত্যাচারী, সে অমানবিক জুলুম করেছে। আমরা কি করে ওকে ঘৃণা না করে থাকতে পারি? এরপর মদীনাবাসীরাও একটি প্রতিনিধিদল দামেস্কে প্রেরণ করেছিলেন, ইয়াজিদের হাল-অবস্থা দেখার জন্য। ওনারা ফিরে এসে যা বিবরণ দিলেন, তা হলাে “ইয়াজিদের আমলে যা হচ্ছে, ইতিপূর্বে আর কারাে আমলে এরকম হয়নি। ইয়াজিদের রাজ্যে হারাম বলতে কিছু নেই। মদ, জুয়া, ঘুষ, দুর্নীতি, যেনা, ব্যভিচার, ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে ইত্যাদি সব কিছু জায়েয। এ সবের বিরুদ্ধে ইয়াজিদের কোন উচ্চ বাচ্য নেই বরং প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে। ফলে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আরাে ব্যাপক আকার ধারণ করলাে। মক্কা-মদীনাবাসীরা অহরহ ওর উপর খােদার লানত দিচ্ছিল এবং প্রকাশ্যভাবে ওর রাজত্বকে অবৈধ ঘােষনা করল।
পূর্ববর্তী পেইজ | পরবর্তী পেইজ |
(৩৩) রওজা পাকে ইমাম জয়নুল আবেদীন (রাঃ)এর হাজেরী | (৩৫) ইয়াজিদ বাহিনীর মক্কা-মদীনা আক্রমণ |
সূচীপত্র | এরকম আরো পেইজ |