নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ মহান নবীর উপর দরূদ পড়েন। (রহমত নাজিল করেন)। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীজীর উপর দরূদ পাঠ কর এবং সম্মানের সাথে সালাম জানাও।
(সুরা আহযাব-৫৬ আয়াত)
১) উক্ত আয়াতের দুটি অংশ। প্রথম অংশে মহান নবীর উপর আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণের সদা-সর্বদা দরূদ পাঠের সুসংবাদ প্রদান ।
২) আয়াতের দ্বিতীয় অংশে মুমিনদের প্রতি দরুদ পাঠ ও সালাম প্রেরণের নির্দেশ ।
৩) আল্লাহ্ ও ফেরেশ্্তাগণের সর্বদা দরুদ পাঠের নিশ্চয়তা ।
৪) আল্লাহ্ ও ফেরেশ্ততাগণের দরুদের সময় নির্ধারণ । যখন থেকে তিনি নবী তখন থেকেই দরুদের শুরু ।
৫) যতদিন তিনি নবী খেতাবে ভূষিত থাকবেন, ততদিন উক্ত দরূদ চালু থাকবে ।
৬) যখন আল্লাহর নাম নেয়ার মত কোন সৃষ্টি থাকবেনা- সব ধ্বংস হয়ে যাবে, তখনও নবীজীর দরূদ চালু থাকবে। কেননা, তখন তো আল্লাহ থাকবেন। স্বয়ং আল্লাহ তাঁর দরূদ পড়ছেন এবং ভবিষ্যতেও পড়তে থাকবেন । আল্লাহর জিকির সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে- যখন সব ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু নবীজীর দরূদ বন্ধ হবে না ।
৭) আল্লাহর দরূদের অর্থ- নবীজীর ওপর খাছ রহমত বর্ষণ ও তাঁর শান বৃদ্ধিকরণ (শেফা শরীফ) । ফেরেশতাগণের দরূদের অর্থ শান বৃদ্ধি করার প্রার্থনা করা এবং মুমিনগণের দরূদের অর্থ নবীজীর জন্য রহমত কামনা করে নিজেদের গুনাহ খন্ডন ও রহমতের মর্তবা অর্জন করা ।
৮) দরূদ শরীফ আল্লাহ ও ফেরেশতাগণের আমল। বান্দার অন্য কোন আমলে আল্লাহ শরীক নন। একমাত্র দরূদের আমলেই শরীক। নবীজীর শান কত মহান ।
৯) নামাজের মধ্যে দরূদ ও সালাম নির্ধারিত শব্দ যোগে আদায় করতে হবে । তাশাহ্হুদের মধ্যে সালাম জানাতে হবে “আস্সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” বলে এবং নামাজের মধ্যে দরূদ পড়তে হবে, ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা ছাইয়িদিনা মুহাম্মাদীন' বলে । এখানে অন্য কোন দরূদ ও সালাম গ্রহণযোগ্য নয় । বোখারী শরীফ কিতাবুস সালাত অধ্যায় দেখুন। কিন্তু নামাজের বাইরে যে কোন দরূদ শরীফ পাঠ করা যাবে। অবশ্য সালাত এবং সালাম শব্দ দুটি অবশ্যই দরূদে থাকতে হবে। যেমন : আস সালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ ইত্যাদি। দেওবন্দের মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানীর 'শেহাবে সাকিব' দেখুন ।
১০) দরূদে ইবরাহিমী ছাড়া নামাজে অন্য দরূদ হবেনা। কিন্তু মিলাদে, জিকির মাহফিলে, অজিফায়, আমলে, মসজিদে প্রবেশকালে বিভিন্ন রকমের দরূদ শরীফ সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। শেফা শরীফে কাজী আয়াজ (রহঃ) প্রায় ত্রিশ ধরনের দরূদ ও সালাম বর্ণনা করেছেন। তিনি হযরত বিবি ফাতেমা, হযরত আলী, হযরত বেলাল, হযরত ইবনে মাসউদ এবং নবীজীর দরূদ শরীফও উল্লেখ করেছেন । আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সালাত এবং সালাম পাঠ করার নির্দেশ করেছেন। কিন্তু বিশেষ ধরনের সালাত ও সালাম নির্ধারিত করে দেননি। সুতরাং সালাত ও সালাম শব্দদ্বয় সম্বলিত আরবী, বাংলা, উর্দু, ফার্সি, ইংরেজী যে কোন ভাষায় দরূদ শরীফ পাঠ করার অনুমতি আছে। হ্যাঁ, আরবী ও হাদিছে বর্ণিত বিভিন্ন দরূদ শরীফের মর্তবা সকলের ঊর্ধ্বে। সুতরাং বাংলাদেশে পঠিত সব রকমের দরূদ-ই জায়েয ।
১১) নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন :
আল্লাহর নির্ধারিত ফেরেশতাগণ আমার উম্মতের ছালাম আমার নিকট পৌঁছায়
(মিশকাত)
তিনি আরও এরশাদ করেন
[আরবী]
“আমি ফেরেস্তাগণের মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তোমাদের দরূদ শুনতে পাই”
১২) উপরোক্ত ১১ নম্বরে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো- নবী করিম (দঃ) স্ব-শরীরে জিবীত এবং আমাদের দরূদ ও সালাম দু প্রকারেই শুনতে পান - ফেরেশতাদের মাধ্যমে এবং সরাসরি।